• ২০২৬ মার্চ ০৫, বৃহস্পতিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত, তেলের ভয়াবহ সংকট।

  • প্রকাশিত ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, মার্চ ০৫, ২০২৬
ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত, তেলের ভয়াবহ  সংকট।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নতুন করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বিশ্ববাজারে বহুল ব্যবহৃত ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য গত তিন দিনে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ হলো সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ  করে দিয়েছে ইওরান—এমন অবস্থা থেকেই বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এখানে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে।

এরই প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে বাংলাদেশও এই চাপের বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় তেল সরবরাহে ঘাটতির খবর পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে কৃত্রিম সংকট ও ভোক্তাদের উদ্বেগ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল না হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হতে পারে।


সর্বশেষ