• ২০২৬ মার্চ ০৭, শনিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ২৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের পায়ের রগ কেটে দিল! এলাকায় চড়ম উত্তেজনা।

  • প্রকাশিত ১০:০৩ পূর্বাহ্ন শনিবার, মার্চ ০৭, ২০২৬
৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের পায়ের রগ কেটে দিল!  এলাকায় চড়ম উত্তেজনা।
file
হাসিনুর রহমান হাসু। টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক।

যশোরে নৃশংস হামলা: ছাত্রলীগ নেতার ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের পায়ের রগ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, এলাকায় তীব্র ক্ষোভ।

যশোরে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে গেছে এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অতর্কিত হামলার অভিযোগ:

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বয়সের ভারে ন্যুব্জ ওই বৃদ্ধা নিজের বাড়িতেই ছিলেন। হঠাৎ করে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। হামলার পরপরই অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ:

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষায়:

“রাজনৈতিক বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু একজন ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের ওপর এমন নৃশংস হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা কাপুরুষোচিত ও অমানবিক কাজ।”

রাজনৈতিক আক্রোশের অভিযোগ:

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ছেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে অভিযুক্ত করেনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক মতবিরোধ যদি পরিবারের নিরীহ সদস্যদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলায় রূপ নেয়, তবে তা সমাজের জন্য ভয়াবহ সংকেত।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ:

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে একজন বয়স্ক নারীর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা শুধু আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিচ্ছবি।

তাদের দাবি:

* ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে

* জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে

* ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে

প্রসাশনের ভূমিকা:

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলা বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি:

“অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

বড় প্রশ্ন:

রাজনীতির নামে প্রতিপক্ষকে আঘাত করতে গিয়ে যদি একজন অসহায় বৃদ্ধা মা পর্যন্ত রেহাই না পান, তবে তা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—

মানবিকতা যখন রাজনীতির কাছে পরাজিত হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সমাজই।

এখন সবার চোখ প্রশাসনের দিকে—

এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার কত দ্রুত নিশ্চিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।


সর্বশেষ