• ২০২৬ মার্চ ১২, বৃহস্পতিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ২৭
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

শাজাহানপুরে ভিজিএফের চাল লুটপাটের অভিযোগ চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশিত ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬
শাজাহানপুরে ভিজিএফের চাল লুটপাটের অভিযোগ চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে
File
তৌফিক এলাহী বগুড়া প্রতিনিধি

শাজাহানপুরে ভিজিএফের চাল লুটপাটের অভিযোগ চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে


বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে লুটপাট, স্বজনপ্রীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও একাধিক ইউপি সদস্যকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো।

বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চাল বিতরণের সময় এ অভিযোগ ওঠে। এ সময় শত শত দরিদ্র নারী-পুরুষ পরিষদ চত্বরে জড়ো হয়ে সুষ্ঠুভাবে চাল বিতরণের দাবি জানান এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বহিষ্কার দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে হট্টগোল করেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অতিদরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তিকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত দরিদ্ররা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

খোট্টাপাড়া গ্রামের এক নারী অভিযোগ করে বলেন,গরিবদের বাদ দিয়ে অনেক বড়লোক মানুষকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পরে সেই চাল বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া উপকারভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বালতি দিয়ে পরিমাপ করে অনেককে সাড়ে ৮ কেজি, ৯ কেজি বা সাড়ে ৯ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সারাদেশে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণের কথা রয়েছে।

ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করে বলেন, মেম্বার ও প্যানেল চেয়ারম্যানদের ঘনিষ্ঠ লোকজন একাধিক কার্ড পেয়েছেন। সেই চাল পরে বাজারে বিক্রি করে তার ভাগও পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি ঘরের ভেতরে এখনও প্রায় ১০০ বস্তা চাল মজুত রেখে চাল শেষ হয়ে গেছে বলে নাটক করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

আরেক উপকারভোগী সালমা বেগম বলেন,সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও আমরা নির্ধারিত ১০ কেজি চাল পাইনি। ৮ থেকে ৯ কেজির মতো চাল দেওয়া হয়েছে।


এ সময় চাল না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ এক নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে এলে সেখানে সাময়িক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন,দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,চাল কম দেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। বিএনপি নেতাদের কার্ডে ভাগ দেওয়ার কথা ছিল, তা না দেওয়ায় তারা বিষয়টি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছে।


শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তাইফুর রহমান বলেন, ভিজিএফের চাল কম দেওয়া বা লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ