• ২০২৬ Jul ২৯, বুধবার, ১৪৩৩ শ্রাবণ ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৭ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল বাংলাদেশ, আশ্বাস আনোয়ার ইব্রাহিমের

  • প্রকাশিত ০১:০৭ পূর্বাহ্ন বুধবার, Jul ২৯, ২০২৬
জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল বাংলাদেশ, আশ্বাস আনোয়ার ইব্রাহিমের
File
মোঃ সেলিম মিয়া বিশেষ প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

জ্বালানি সংকট নিরসনে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল বাংলাদেশ, আশ্বাস আনোয়ার ইব্রাহিমের


মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল বিকল হয়ে সৃষ্ট গ্যাস সংকট মোকাবেলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন তিনি। আলোচনায় বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠি একই দিনে মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। চিঠিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে মালয়েশিয়ার সহায়তা কামনা করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টেলিফোন আলাপের সময় আনোয়ার ইব্রাহিম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে উল্লেখ করেছেন।

সরকার আশা করছে, স্বল্পমেয়াদে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আর তা সম্ভব না হলে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, বাংলাদেশ আগে থেকেই মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে। শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা, পরামর্শ এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে বিকল হয়ে পড়া মহেশখালীর এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মঙ্গলবার সকালে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ। বৈঠকে কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট আজিজ কাসিম সরকারের কাছে মেরামত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোম্পানির দেওয়া কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী সপ্তাহের শুরুতে প্রতিদিন প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ পুরো টার্মিনালটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মেরামতে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরাও কাজ করছেন।

ছাড়া গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের সময় দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় এলএনজি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পেট্রোলিয়াম খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি এলএনজি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার জাপানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত থাকায় একটি এফএসআরইউ অচল হয়ে পড়লে তার প্রভাব পুরো দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর পড়ে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

সর্বশেষ