ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে ধর্ষণ এবং তার বাবাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর লোকলজ্জা ও মানসিক চাপে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই কিশোরীর বাবা। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শনিবার রাতে ঢাকার সাভার উপজেলার কাতলাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইফুল বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ওই এলাকার বাসিন্দা।
মামলা ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে বেশ কিছুদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন সাইফুল। একপর্যায়ে গত ২৫ জুন সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যান তিনি। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে কাগজ ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানতে পেরে কিশোরীর বাবা প্রতিবাদ জানাতে সাইফুলের বাড়িতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর গত ২ জুলাই বিকেলে বাড়ি থেকে বের হলে সাইফুল ও তার সহযোগীরা কিশোরীর বাবার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এতে তার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।
পরে ৫ জুলাই সকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের ঘটনা নিয়ে সামাজিক লজ্জা এবং অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ৫ জুলাই বালিয়াডাঙ্গী থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় কিশোরীকে ধর্ষণ এবং তার বাবাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
র্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের কাতলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র্যাব-১৩ ও র্যাব-৪-এর সদস্যরা মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।
মতামত দিন