দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় প্রায় এক কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের তৃতীয় ধাপের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরই অংশ হিসেবে সোমবার কেন্দ্রটিতে সরবরাহ করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই করেন দুদকের বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) মেশিন, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড ও স্বয়ংক্রিয় ফেব্রিক্স পরিদর্শন মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রকৃত মান ও ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
দুদকের অভিযোগের আওতায় রয়েছে গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এসব অভিযোগে কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ রাকিবুল হাসান, সাবেক অধ্যক্ষ মো. মাসুদ রানা এবং কম্পিউটার বিভাগের সাবেক প্রধান প্রশিক্ষক নিমাই কুমার দত্তসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
সোমবার সরেজমিনে যাচাইয়ের সময় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, পিএলসি মেশিন ও ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড যথাযথভাবে পরীক্ষা করতে হলে এগুলো ল্যাবে নিয়ে যেতে হবে অথবা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ঘটনাস্থলে এনে পরীক্ষা করতে হবে।
এদিকে দিনাজপুর টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রধান প্রশিক্ষক শাহরিয়ার রায়হান স্বয়ংক্রিয় ফেব্রিক্স পরিদর্শন মেশিনটি পরীক্ষা করেন। যাচাই শেষে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
দুদকের দিনাজপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আতাউর রহমান সরকার জানান, যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে যাচাই করছে।
তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। তখন আন্তর্জাতিক মানের পিএলসি মেশিনের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামের দেশীয় মেশিন কেনা হলেও দরপত্রে এর মূল্য বেশি দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চারটি ডিজিটাল বোর্ড কেনায় প্রায় ৩২ লাখ টাকা এবং ফেব্রিক্স মেশিন কেনাতেও কয়েক লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উঠে আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কেনাকাটায় প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। প্রথম ধাপের তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল দুদক। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট মেশিনগুলো জব্দ দেখানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে যন্ত্রপাতিগুলো পর্যালোচনা করা হলো।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মতামত দিন