টাইম বাংলা নিউজ (Time Bangla News)
নিরাপত্তা ও মাতৃত্বের সুরক্ষায় তাসলিমাদের পাশে রাষ্ট্র: ৬৪ জেলায় 'ফ্রি বেবি কেয়ার' ও আইনি সুরক্ষার আকুল আবেদন
জীবিকার তাগিদে এবং সমাজের নানা প্রতিকূলতা ও হিংস্রতার হাত থেকে আত্মরক্ষার্থে পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে রিকশা চালানো তাসলিমা (বা লিমা)-র জীবনসংগ্রাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোলে দুধের শিশু নিয়ে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এক নারীর হাড়ভাঙ্গা খাটুনি কেবল ব্যক্তি তাসলিমার কষ্টের চিত্র নয়, বরং দেশের বহু অসহায় ও কর্মজীবী মায়ের নিরাপত্তাহীনতার এক জ্বলন্ত বাস্তবতা। এ অবস্থায় সরকার ও নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।
৬৪ জেলায় 'ফ্রি বেবি কেয়ার' চালুর আহ্বান
অসহায় ও নিম্নআয়ের কর্মজীবী মায়েদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সন্তানদের নিরাপত্তা। তাসলিমাদের মতো মা যেন শিশুকে কোলে বা রিকশার সিটে বসিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য না হন, সেজন্য দেশের ৬৪টি জেলাতেই সরকারচালিত বিনামূল্যে শিশু যত্ন কেন্দ্র বা 'ফ্রি বেবি কেয়ার' গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
সরকার নিজস্ব বাজেট, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক সাহায্য কিংবা আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার তহবিল—অথবা যৌথ অর্থায়নের মাধ্যমে প্রতিটি জেলায় মানসম্মত ফ্রি বেবি কেয়ার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এতে করে কর্মজীবী মায়েরা নিশ্চিন্তে সন্তানকে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।
মেয়াদী মাতৃত্ব ভাতা ও আইনি সুরক্ষার দাবি
এমন চরম প্রতিকূলতায় থাকা সংগ্রামী মায়েদের জন্য সরকারিভাবে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী বিশেষ মাতৃত্ব ভাতা চালুর জোর দাবি জানানো হচ্ছে। একই সাথে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, অত্যাচার বা বাধ্য হয়ে ছদ্মবেশ ধারণের মতো পরিবেশ সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশের আইন ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সরকার এ ধরনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিলে দেশের আপামর জনগণ সম্পূর্ণভাবে সরকারের পাশে থাকবে।
অপরাধের পরিচয় অপরাধী: লিঙ্গভিত্তিক বিচার নয়
আমাদের সমাজে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেই পুরুষ বা নারী জাতিকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করার একটি প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু কোনো চরম বা জঘন্য ঘটনা ঘটলে 'সব পুরুষ খারাপ' কিংবা 'সব নারী খারাপ'—এভাবে বিষয়টি দেখার কোনো সুযোগ নেই।
অপরাধীর একমাত্র পরিচায় সে একজন 'অন্যায়কারী'। অপরাধী পুরুষ কিংবা নারী যা-ই হোক না কেন, তাকে ব্যক্তি হিসেবে অপরাধী গণ্য করে কঠোরতম শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যায়ের দায়ে নির্দিষ্ট কোনো লিঙ্গ বা গোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে দায়ী করার মানসিকতা পরিহার করা জরুরি।
উপসংহার
তসলিমাদের মতো নারীদের জীবনসংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল মৌখিক সহানুভূতি নয়, দেশের প্রতিটি অসহায় মায়ের জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা বলয় নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের একটি সঠিক ও কঠোর পদক্ষেপ দেশের লাখ লাখ মানুষের আস্থা ফেরাতে পারে।
মতামত দিন