• ২০২৬ অগাস্ট ২৭, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১২
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৮ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

দ্রব্যমূল্যে স্বস্তি কোথায়? পরিসংখ্যানে কমলেও বাজারে চাপ কাটেনি

  • প্রকাশিত ১২:০৮ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, অগাস্ট ২৭, ২০২৬
দ্রব্যমূল্যে স্বস্তি কোথায়? পরিসংখ্যানে কমলেও বাজারে চাপ কাটেনি
দ্রব্যমূল্যে স্বস্তি কোথায়? পরিসংখ্যানে কমলেও বাজারে চাপ কাটেনি
মোহাম্মাাদ শফিউল্লাহ : জেলা প্রতিনিধি ঢাকা

দেশে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর স্বস্তি এখনও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, জুলাই ২০২৬-এ দেশের সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে, যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।

তবে মূল্যস্ফীতির হার কমার সঙ্গে বাজারদরের বাস্তব চিত্র পুরোপুরি মিলছে না। সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ ও সবজিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকার কথা উঠে এসেছে। সারাবাংলার সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেট চাপে পড়ছে এবং অনেক পরিবার খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করছে।

নিত্যপণ্যের দামে এখনও অস্বস্তি

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের অনলাইন বাজারদর অনুযায়ী, বর্তমানে সরু আমন চাল প্রতি কেজি ৭২–৭৫ টাকা, মাঝারি চাল ৫৬–৬০ টাকা এবং বোরো সরু চাল ৬৬–৭০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সয়াবিন তেল ১৬৩–১৬৫ টাকা, মুগ ডাল ১২২–১২৮ টাকা, চিনি ১৩২–১৩৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০–৬৪ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২১৮–২৩৭ টাকা কেজি দরে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

গণমাধ্যমের বাজার পর্যবেক্ষণেও একই ধরনের চাপের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে মোটা চাল ৫২–৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল প্রায় ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭৮ টাকা এবং কাটারি-নাজির চাল ৮৫ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সবজির দামও অনেক ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ৮০–১০০ টাকার ওপরে রয়েছে।

আয় বাড়ার চেয়ে ব্যয় বেশি

মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানুষের আয় কতটা তাল মেলাতে পারছে—এটিও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বিবিএসের হিসাবে জুলাইয়ে মজুরি হার সূচক বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, অথচ একই সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অর্থাৎ গড় হিসাবে মজুরি বৃদ্ধির হার এখনও মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে।

এর ফলে নামমাত্র আয় বাড়লেও প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতায় চাপ থেকে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আয় ও ব্যয়ের এই ব্যবধান চলতে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সঞ্চয় কমার পাশাপাশি খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রবণতা বাড়তে পারে।

কেন বাজারে স্বস্তি ফিরছে না?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমলেই বাজারদর তাৎক্ষণিকভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, আমদানি ব্যয় এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যাও নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ বলে বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ।

ফলে বাজারে স্থায়ী স্বস্তি আনতে শুধু অভিযান বা সাময়িকভাবে কোনো একটি পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। কৃষক থেকে পাইকারি ও খুচরা বাজার পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা বাড়ানো, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের নিচে নামা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক সংকেত। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এর প্রকৃত সুফল তখনই দৃশ্যমান হবে, যখন বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল হবে এবং আয় বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য তৈরি হবে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার তদারকির পাশাপাশি কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা, টিসিবির পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার জরুরি। পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি ফেরানোই এখন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (DAM), বাসস, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও সারাবাংলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন।

সর্বশেষ