• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩, বৃহস্পতিবার, ১৪৩৩ ভাদ্র ১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

  • প্রকাশিত ১২:০৯ অপরাহ্ন বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ
Time Bangla news
মিজানুর রহমান কুমিল্লা জেলা চিফ প্রতিনিধি

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

কলকাতা প্রতিনিধি

সাহায্য নয়, ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল; নজরে ভারতসহ তিন দেশ

দীর্ঘদিন ধরে চলা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই হিমালয়ের এই দেশ বারবার ভয়াবহ বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মুখে পড়ছে।

ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল। প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ইতোমধ্যে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৪৭ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিমানে করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে নেপালে। এর মধ্যেই এবার ভারতসহ বিশ্বের বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করার কথা জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তার দাবি, নেপালের বর্তমান বিপর্যয়কে শুধু আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। দীর্ঘদিন ধরে চলা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই হিমালয়ের এই দেশ বারবার ভয়াবহ বন্যা, হড়পা বান ও ভূমিধসের মুখে পড়ছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কান্তিপুর টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের কূটনৈতিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হতে পারে। এতদিন আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে নেপাল ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিকে সামনে আনতে পারে।

শিশির খানাল বলেন, এটি দাতব্যের বিষয় নয়। এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তার যুক্তি, জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের অবদান অত্যন্ত সামান্য। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবগুলোর একটি পড়ছে নেপালের মতো পাহাড়ি দেশগুলোর ওপর।

বন্যায় নিখোঁজ একমাত্র ছেলে, ধার করা দুই হাজার রুপিতে দিনের পর দিন খুঁজছেন বাবা

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করার বিষয়টি বিবেচনা করছে কাঠমান্ডু। তার মতে, এসব দেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে হিমবাহ, নদী, পাহাড় ও বর্ষার স্বাভাবিক ব্যবস্থার ওপর।

নেপালের অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে পাহাড়, নদী, হিমবাহ এবং মৌসুমি বৃষ্টিপাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চলে হ্রদের জলস্তর বৃদ্ধি, হড়পা বান ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এই পরিস্থিতিতে নেপালের বক্তব্য, বিপর্যয়ের পর শুধু ত্রাণ পাঠালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যারা তুলনামূলকভাবে বেশি দায়ী, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ভারত অবশ্য নেপালে দুর্যোগের সময়ে দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়েছে। ত্রাণ নিয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একাধিক উড়ান নেপালে পৌঁছেছে। তবে নেপালের নতুন অবস্থান ভবিষ্যতে ভারতসহ বড় নিঃসরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে জলবায়ু কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ