' *নিরাপত্তার দাবিতে সাজেকে ফের অবরোধ, জিম্মি ৩০ হাজার মানুষের জনজীবন'। '*
*উপশিরোনাম:* সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বেগ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ।
রাঙ্গামাটি: আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে রাঙ্গামাটির সাজেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে বন্ধ হয়ে পড়েছে সাজেক সড়কে যান চলাচল। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ অবরোধের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির নেতারা হলেন গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। ধারাবাহিক সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি সামনে রেখে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর একই দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেন সংগঠন দুটির নেতাকর্মীরা। ওই দিন বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় পুনরায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
*স্থবির জনজীবন, খাদ্যসংকটের শঙ্কা*
অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রটির রিসোর্ট, কটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি পর্যটননির্ভর ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম ব্রিজ ও মাচালংয়ের ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার, বাঁশ ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে দেখা যায়।
পরিবহন বন্ধ থাকায় জুমচাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল হাটবাজারে নিতে পারছেন না। হাটের দিনেও বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমে গেছে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিতে এও পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্থাপিত দাবিগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত দিন