• ২০২৬ নভেম্বর ০২, সোমবার, ১৪৩৩ কার্তিক ১৮
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

মজুরি আন্দোলনে অনুপ্রবেশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১১।*

  • প্রকাশিত ০৪:১১ অপরাহ্ন সোমবার, নভেম্বর ০২, ২০২৬
মজুরি আন্দোলনে অনুপ্রবেশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১১।*
Time Bangla news
ফলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*মজুরি আন্দোলনে অনুপ্রবেশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১১।* 


 *উপশিরোনাম:* শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার। 

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ, সংঘাত উসকে দেওয়া এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে আরও ১৭ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১ নভেম্বর) ডিবির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাঁদের মধ্যে রাকিব ও আরিফ নামের দুজনের পরিচয় জানা গেছে। অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় নিয়ে এসেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে শতাধিক নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার আবু নাসের রিকাবদার আরও ১৭ জনকে আটকের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, নাশকতার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।

এদিকে মিরপুরের শ্রমিক আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলামের অংশগ্রহণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। রোববার সকাল থেকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আন্দোলনের একাধিক ছবি প্রকাশ করেন তিনি। একটি পোস্টে নিজেকে শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটির উল্লেখ রয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কয়েক টি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপেও তাঁর আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি পেজের দাবি, বর্তমানে তিনি পোশাকশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনও। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, শ্রমিক পরিচয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। মিরপুরে সাজবুল ইসলাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নতুন করে আন্দোলন সংগঠিত করার অপচেষ্টার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধেও আন্দোলনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তাঁর পোস্টে।

 *পাঁচ ঘণ্টা সংঘর্ষ-অবরোধে অচল মিরপুর* 

এদিকে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মাসিক মজুরির দাবিতে কয়েক দিন ধরেই মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধের মধ্য দিয়ে নতুন করে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল থেকে সড়কে অবস্থান নেওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে দুপুর পর্যন্ত। একপর্যায়ে মিরপুর-১০ এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং একটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। নিরাপত্তার কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ ও সংঘর্ষে মিরপুরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন পাসের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি তৈরি হয়। দলটির নিবন্ধনও স্থগিত রয়েছে।

এর মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীদের কথিত অংশগ্রহণ এবং নাশকতার অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

 *তথ্যসূত্র:*  Sonali news.

সর্বশেষ