• ২০২৬ নভেম্বর ০৬, শুক্রবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

ইবি'র ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক কর্মচারী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

  • প্রকাশিত ০৬:১১ অপরাহ্ন শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
ইবি'র ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক কর্মচারী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত
Time Bangla news
তিতাস আহম্মেদ,কুষ্টিয়া

ইবি'র ২৬৮ জন ডে-লেবার ও থোক কর্মচারী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নির্দেশনার আলোকেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২৬৮ জন দৈনিক মজুরি (ডে-লেবার) ও থোক বরাদ্দের কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৬তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।  বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগে ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দ না থাকায় প্রশাসনিক ও বিভিন্ন দপ্তরের চাহিদা মেটাতে 'থোক, দৈনিক মজুরি ও পোষ্য কোটায়' এসব চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল মিলিয়ে ২৬৮ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬২ জন থোক বরাদ্দে (যার অধিকাংশই পোষ্য কোটা) এবং প্রায় ২০০ জন দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছেন। এদের মধ্যে অনেকে ১০ থেকে ২০ বছর ধরে স্থায়ী হওয়ার আশায় মালি, নিরাপত্তা প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও অফিস সহকারী হিসেবে সেবা দিয়ে আসছিলেন।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো তহবিল নেই এবং সরকার বা ইউজিসি থেকেও এসব কর্মচারীর ব্যয় বহনের অর্থ মিলছে না। ফলে আপাতত তাঁদের বেতন-ভাতা বহন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ইউজিসির চিঠির নির্দেশনায় সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।"

​তবে কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বিষয়ে উপাচার্য আশ্বস্ত করে জানান, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের বিগত ৩ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনবল সংকট কাটাতে ইউজিসিতে নতুন চাহিদাপত্র পাঠানো হবে এবং ইউজিসি অনুমোদন দিলে বর্তমান কর্মচারীদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় রাখার চেষ্টা করা হবে।

​এর আগে এসব অস্থায়ী নিয়োগের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আর্থিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে গত ২০ জুন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ড. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সর্বশেষ সিন্ডিকেটে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

এদিকে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। চাকরি স্থায়ীকরণ ও অন্যান্য আইনি সুযোগ-সুবিধার দাবিতে ভুক্তভোগী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তুসহ একাংশ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমার যৌথ বেঞ্চ ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন।

​প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে 'অমানবিক' আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ অন্তু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে শ্রম দেওয়া কর্মচারীদের সঙ্গে এটি অন্যায় করা হচ্ছে। আইনিভাবে মামলা বা রিট চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা আমাদের আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

সর্বশেষ