• ২০২৬ নভেম্বর ০৭, শনিবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১১ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

এক ভাঙা সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।

  • প্রকাশিত ১২:১১ পূর্বাহ্ন শনিবার, নভেম্বর ০৭, ২০২৬
এক ভাঙা সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*এক ভাঙা সাঁকোই আট গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।*

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে একটি বাঁশের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুই পাড়ের আট গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ। প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকোটির অর্ধেকের বেশি অংশ দুই থেকে তিন মাস ধরে ভাঙা পড়ে থাকলেও সংস্কারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপর নির্মিত সাঁকোটি স্থানীয়দের কাছে নবিউলের ঘাট নামে পরিচিত। এর দক্ষিণ পাশের মাঝামাঝি প্রায় ১৫০ ফুট অংশ ভেঙে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে কেউ বুকসমান পানি পেরিয়ে, কেউ সাঁতরে আবার কেউ ভাঙা অংশ ধরে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্করা। বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় নদী পারাপারে নৌকাই ছিল একমাত্র ভরসা। করিমের ঘাট ও নবিউলের ঘাট দিয়ে ইজারাদারের নৌকায় পারাপার হতেন দুই পাড়ের বাসিন্দারা। পরে নদীর প্রস্থ কমে এলে স্থানীয় উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। প্রায় দেড় যুগ ধরে এই সাঁকো ব্যবহার করে আসছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। প্রতিবছর বর্ষার আগে স্থানীয়ভাবে এটি মেরামত করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।

সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমণ্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজারসহ লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী বলেন, দুই-তিন মাস ধরে কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে। সন্তানদেরও ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এত দিনেও কেউ খোঁজ নিতে আসেননি। দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সাইফুল ইসলাম জানায়, ভাঙা সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে হয়। অন্য কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পার হতে হচ্ছে।

নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী বলেন, সাঁকোটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। এটি নির্মিত হলে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ কমবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, সাঁকো ভেঙে স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ