• ২০২৬ নভেম্বর ০৬, শুক্রবার, ১৪৩৩ কার্তিক ২২
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১১ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে ছিল অর্ধশত বছরের অপেক্ষা, বাবার শেষ বিদায়ে মিলল মেয়ের দেখা।

  • প্রকাশিত ১১:১১ অপরাহ্ন শুক্রবার, নভেম্বর ০৬, ২০২৬
সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে ছিল অর্ধশত বছরের অপেক্ষা, বাবার শেষ বিদায়ে মিলল মেয়ের দেখা।
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে ছিল অর্ধশত বছরের অপেক্ষা, বাবার শেষ বিদায়ে মিলল মেয়ের দেখা।* 

দুই দেশের সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেড়ে নিয়েছিল বাবা-মেয়ের স্বাভাবিক যোগাযোগের সুযোগ। কেটে গেছে প্রায় অর্ধশতাব্দী। দীর্ঘ এই সময়ে বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি মেয়ের। অবশেষে দেখা হলো, তবে জীবনের শেষ মুহূর্তে নয়, বাবার নিথর মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় জানাতে।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মানবিক উদ্যোগে শূন্যরেখায় বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান মেয়ে ফিরদৌসী খাতুন।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী মনোরুদ্দীন। ছয় সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।

বিয়ের পর থেকে প্রায় ৪৫-৫০ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন ফিরদৌসী। একসময় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর বাবার বাড়ির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বাবার সঙ্গে আর দেখা করার সুযোগ হয়নি তাঁর।

সম্প্রতি বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শেষবারের মতো তাঁকে দেখার আকুতি জানান ফিরদৌসী। তাঁর সেই আকুতি বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিশেষ উদ্যোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দলের নেতৃত্ব দেন এএসআই সুনীল কুমার।

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বিচ্ছেদ শেষে বাবাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেলেও সেই সাক্ষাৎ ছিল বেদনায় ভারী। প্রিয় বাবার নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফিরদৌসী। সীমান্তের কাঁটাতার দুই দেশের ভূখণ্ড আলাদা করতে পারলেও শেষ বিদায়ের মুহূর্তে বাবা-মেয়ের আবেগ আর ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারেনি।

সর্বশেষ