*বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলা ও সবুজায়নে ঘিওরের তিন সড়কে বসছে এক হাজার তালগাছ, প্রথম দিনেই রোপণ ৫০০ চারা।*
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক হাজার তালগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু করেছে আব্দুল মজিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। উদ্বোধনের দিনেই বিভিন্ন সড়কের পাশে রোপণ করা হয়েছে ৫০০ তালগাছের চারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ঘিওর পঞ্চরাস্তা থেকে সিংজুরী এবং ঘিওর পঞ্চরাস্তা থেকে তেরশ্রী সড়কের বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণ করা হয়।
ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, তিনটি সড়ককে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঘিওর পঞ্চরাস্তা-সিংজুরী, ঘিওর পঞ্চরাস্তা-তেরশ্রী এবং ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-দোতরা বাজার সড়ক। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধান, ঘিওর উত্তরপাড়া যুবসমাজের সহযোগিতা এবং সংসদ সদস্যের দিকনির্দেশনায় কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে।
ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সমাজসেবক জাকির ইকবাল বলেন, তাঁর বাবার আদর্শ ও নির্দেশনা অনুসরণ করেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। ঘিওর উপজেলায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরো জেলাজুড়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মোহসিন বলেন, তালগাছ পরিবেশের জন্য উপকারী। বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি এসব গাছ থেকে মানুষ ছায়া ও ফল পাবে। ফলে উদ্যোগটি পরিবেশ ও জনজীবন—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, আব্দুল মজিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ করে আসছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমসহ তাদের বেশ কিছু উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করলে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ-১ আসনেও ইতিমধ্যে লক্ষাধিক গাছ লাগানো হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় আব্দুল মজিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের প্রতিনিধি, ফাউন্ডেশনের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মতামত দিন