• ২০২৬ ফেব্রুয়ারী ১৯, বৃহস্পতিবার, ১৪৩২ ফাল্গুন ৬
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

রোজা শুরুর আগেই ভালুকায় লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন, রমজানের প্রথম দিনেই চাপের শঙ্কা

  • প্রকাশিত ০৫:০২ পূর্বাহ্ন বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২৬
রোজা শুরুর আগেই ভালুকায় লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন, রমজানের প্রথম দিনেই চাপের শঙ্কা
File
ইমন সরকার, ময়মনসিংহ

রোজা শুরুর আগেই ভালুকায় লেবুর দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন, রমজানের প্রথম দিনেই চাপের শঙ্কা


আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান। সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির এই মাসকে সামনে রেখে যখন সাধারণ মানুষ ইফতার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ভালুকার কাঁচাবাজারগুলোতে লেবুর দামে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক উল্লম্ফন। রোজা শুরুর আগেই প্রতি হালি লেবুর দাম চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভালুকা বাজার, সিডস্টোর বাজার ও স্কয়ার মাস্টারবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে ছোট লেবু প্রতি হালি ৬০ টাকা, মাঝারি ৭০ টাকা এবং বড় লেবু ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সামান্য বড় আকার হলেই দাম হাঁকানো হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। কেজি দরে লেবুর দাম ১৮০ টাকা; বিক্রেতাদের হিসাবে এক কেজিতে গড়ে ১২টি লেবু থাকছে।

রমজান মাসে ইফতার ও দৈনন্দিন খাবারের অনুষঙ্গ হিসেবে লেবুর চাহিদা বাড়ে এটি নতুন কোনো বাস্তবতা নয়। কিন্তু রোজা শুরুর আগেই এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধিকে অনেকেই ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে করছেন। আগামীকাল থেকে রোজা শুরু হওয়ায় প্রথম দিন থেকেই বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।

সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “রমজান আসার আগেই লেবু যেন বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে। আগে ভাত-তরকারির সঙ্গে নিয়মিত লেবু খেতাম। এখন যে দাম, তাতে সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত কেনা কঠিন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই যদি এমন অবস্থা থাকে, তাহলে পুরো মাসজুড়েই চাপ বাড়বে।”

সিডস্টোর বাজারের ব্যবসায়ী আল আমিনের দাবি, দাম বৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ সংকটই প্রধান কারণ। তিনি বলেন, “এই সময়ে বাজারে লেবুর আমদানি কম থাকে। বাগান মালিকদের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। যেসব গাছে সারা বছর কিছু লেবু পাওয়া যায়, এখন সেগুলোর ফলই আসছে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে।”

নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর প্রভাবটা সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ভালুকা বাজার এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, “সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করি, তাতে সংসার চালানোই কঠিন। রমজানে ইফতারে লেবু দরকার হয়, কিন্তু এই দামে কিনতে গেলে ভয় লাগে। রোজা শুরু হলে খরচ আরও বাড়বে।”

স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রাশেদা বেগমের ভাষ্য, “রমজানে চাহিদা বাড়ে এটা সবাই জানে। কিন্তু প্রতি বছরই যদি একইভাবে দাম বাড়ে, তাহলে সংসারের হিসাব মেলানো দায়। ছোট ছোট এই বাড়তি খরচই শেষে বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়।”

সাধারণ ক্রেতাদের মতে, নিত্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে। লেবুর মতো একটি সাধারণ অনুষঙ্গ যখন রোজা শুরুর আগেই নাগালের বাইরে যেতে শুরু করে, তখন তা শুধু খাদ্যাভ্যাস নয় রমজানের স্বস্তি ও প্রস্তুতিকেও সংকুচিত করে।

রমজান শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ভালুকার লেবুর বাজারের এই চিত্র কেবল একটি মৌসুমি পণ্যের দামের গল্প নয়; এটি বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ পরিকল্পনা এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তোলে। চাহিদা বৃদ্ধি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলেও, তার সুযোগে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারে আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

সময়ের দাবি রমজান শুরুর আগেই সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পাইকারি ও খুচরা দামের যুক্তিসংগত সমন্বয় বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা। অন্যথায় সংযম ও সহমর্মিতার মাসের প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাপ আরও প্রকট হয়ে উঠার আশঙ্কাই বেশি।

সর্বশেষ