প্রতিটি উপজেলায় আইটি ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা: ডাকমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন।
দেশের প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর “আইটি ভিলেজ” গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্তত ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং যুবসমাজ প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারবে।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে আম্বাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারছে—এ ধারা বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরপরই বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামেলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড চালু, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদানসহ নানা উদ্যোগ। আগামী ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল থেকেই কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডাকমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে বৈদেশিক সহযোগিতায় হাইটেক পার্ক উন্নয়ন করা হবে। এতে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তিনি জানান, রাজশাহীতে ইতোমধ্যে Starlink সেবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর পর টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে বিএনপির এমপি নির্বাচিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি আম্বাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ স্থানীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ভবন, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাকির হোসেন সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. রতন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মোতালিব হোসেন, পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নূরুন্নবী শিহাব এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মতামত দিন