১ টাকার ভরসা ম্যাচ মালিকের
জীবন বৃত্তান্ত -
১৯৩৫ রংপুরের হারাগাছের দারার পাড় এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন রহিম উদ্দিন ভরসা। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি বড়। পিতা মনের উদ্দিন পাইকার ও মা নবীজন নেছা। ছোট বেলায় কি এক কঠিন অসুখ দেখা দিলে বিভিন্ন রকম চিকিৎসাতেও যখন রহিমউদ্দিন সুস্থ হন না তখন তাঁর মমতাময়ী মা প্রিয় সন্তানকে আল্লাহ্পাকের ভরসায় হাওলা করে দেন। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। মা জননী সেই থেকে ডাকা শুরু করেন ‘ভরসা’ বলে । ধীরে ধীরে এ নাম মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি পরিচিতি লাভ করেন রহিম উদ্দিন ভরসা নামে। এখন এই ‘ভরসা’ নামটি পরিবারের সদস্যদের উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি ১৯৪৪ সালে হারগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন
ছোট কাল থেকেই দূরদর্শী রহিম উদ্দিন ভরসা প্রথমে তামাকের ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকার শ্যামপুরে জায়গা ক্রয় করে ভরসা ম্যাচ ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড গড়ে তুলেন
চলার পথে তাঁর দূরদর্শিতার সাথে সাথে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানুষ ও পরিবেশ চেনার অদ্ভুত অলৌকিক গুণ, সততা এবং সর্বোপরি দৃঢ় মানসিক শক্তি তাঁকে করে তুলেছে অনন্য - অসাধারণ । তাঁকে করে তুলেছে রহিম উদ্দিন ভরসা করে। তিনি নিজেই একটা বড় প্রতিষ্ঠান।
আলহাজ্ব রহিম উদ্দিন ভরসাকে ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় করে রাখবে দৈনিক যুগের আলো পত্রিকা। ১৯৯২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুরের সংবাদপত্রের ইতিহাসে সূচিত হলো এক নব অধ্যায়ের, সে সময়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় দৈনিক যুগের আলোর। যা রংপুর অঞ্চলের প্রথম অফসেট প্রিন্ট পত্রিকা। প্রতিষ্ঠাকালে সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি ও প্রকাশ ছিলেন আলহাজ্ব রহিম উদ্দিন ভরসা। যুগের আলো এখনো রংপুরের অন্যতম প্রধান দৈনিক পত্রিকা।
ব্যবসার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবা ও রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হারাগাছ-কাউনিয়া- পীরগাছা আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সভাপতি এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। দুই মেয়াদে রংপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি পিপলস ইন্সিওরেন্স এর চেয়ারম্যানও ছিলেন বেশ কিছুদিন। তাঁর ভাই করিম উদ্দিন ভরসা রংপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি।
জনাব ভরসা যেন আজন্ম মানবদরদী । মানুষের বিভিন্ন উপকারে তিনি ছিলেন মুক্ত হস্ত মানুষ। মেয়ের বিয়ে, পড়াশুনা, চিকিৎসা, ফসল আবাদ, চাকরি, কর্মসংস্থান ইত্যাদি ব্যাপারে তাঁর দানের ভাণ্ডার ছিল বলা চলে অনেক বড়। অত্যন্ত ধার্মিক ও নীতিবান এই মানুষটা দেশের বিভিন্ন স্থানের মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নে এবং এতিমদের জন্য অকাতরে সাহায্য ও সহযোগিতা করতেন। জনাব ভরসার ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্থাপিত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, নবীজন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পীরগাছা মহিলা কলেজ, রহিমিয়া এতিমখানা, মনের উদ্দিন দাতব্য চিকিৎসালয়।
ওনার সহধর্মিণী মমতাজ শিরিন ভরসা এখন যুগের আলো পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর ছয় ছেলে ও নয় মেয়। মেয়েদের সকলের সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয়েছে। তাঁর এক ছেলে আশরাফুল হক ভরসা ইন্তেকাল করেছেন। অন্য ছেলেরা আরভি গ্রুপের ব্যবসা সাম্রাজ্য দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার পাশাপাশি আরো বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে ভুগে রহিম উদ্দিন ভরসা ২০২০ সালের ১১ মার্চ রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আমরা শ্রদ্ধা সাথে স্মরণ করছি তাঁকে।
মতামত দিন