• ২০২৬ এপ্রিল ২৪, শুক্রবার, ১৪৩৩ বৈশাখ ১১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৪ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

টেক্সাসের সেই অভিশপ্ত রাত।এক নিমিষেই শেষ ৬টি প্রাণ :

  • প্রকাশিত ০৩:০৪ অপরাহ্ন শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
টেক্সাসের সেই অভিশপ্ত রাত।এক নিমিষেই শেষ ৬টি প্রাণ :
File
রেজাউল ইসলাম আশিক

🇺🇸 টেক্সাসের সেই অভিশপ্ত রাত: একটি আদর্শ বাংলাদেশি 🇧🇩 পরিবারের রক্তহিম করা মর্মান্তিক সমাপ্তি! 


‎ এক নিমিষেই শেষ ৬টি প্রাণ; দুই ভাইয়ের ‘সুইসাইড প্যাক্ট’ কেড়ে নিল পুরো পরিবারের হাসি!  


‎ [অ্যালেন, টেক্সাস | ] 


‎রাত তখন ১টা বেজে ৪০ মিনিট। টেক্সাসের ডালাসের শহরতলি অ্যালেনের ১৫০০ ব্লক পাইন ব্লাফ ড্রাইভের একটি অভিজাত বাড়ির সামনে পুলিশের কয়েকটি গাড়ি এসে থামে। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে ‘ওয়েলফেয়ার চেক’ করতে এসেছিল। তারা যখন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে, টর্চের আলোয় যা দেখেছিল তা কোনো হরর সিনেমার চেয়েও ভয়ংকর। ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে রক্তাত ৬টি নিথর দেহ। অথচ কয়েক ঘণ্টা আগেও এই বাড়িটি ছিল ইতালির মতো এক টুকরো সুখী বাংলাদেশ।


‎নিচে এই বুক কাঁপানো ঘটনার লোমহর্ষক এবং বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো যা এর আগে কোনো মিডিয়া এত গভীরভাবে কাভার করেনি:


‎ ভয়ংকর সেই ‘সুইসাইড প্যাক্ট’ বা আত্মহত্যার চুক্তি: 

‎পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত এবং সিবিএস নিউজ (CBS News) ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর ছিল তৌহিদুল ইসলামের দুই ছেলে—২১ বছরের তানভীর তৌহিদ এবং ১৯ বছরের ফারহান তৌহিদ। তারা দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন বা চরম বিষণ্নতায় ভুগছিল। ২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তানভীর তার ছোট ভাই ফারহানকে একটি প্রস্তাব দেয়। সে বলে, আমরা যদি আগামী এক বছরের মধ্যে নিজেদের জীবন স্বাভাবিক করতে না পারি, তবে আমরা নিজেরা মারা যাব এবং পরিবারের সবাইকেও সাথে নিয়ে যাব।


‎ কেন পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত? 

‎ফারহান তৌহিদ তার মৃত্যুর আগে ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ সুইসাইড নোটের লিংক দিয়ে গিয়েছিল। সেখানে সে লিখেছিল, আমি যদি শুধু নিজে আত্মহত্যা করি, তবে আমার মা-বাবা এবং বোন সারা জীবন এই শোক নিয়ে তিলে তিলে মরবে। তাই তাদের ওপর দয়া করে (I did them a favor) আমি তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যাতে তারা কোনো কষ্ট না পায়। কী অদ্ভুত আর বিকৃত ছিল তাদের সেই ভালোবাসা!


‎ নিউজটির বিস্তারিত এবং হাড়কাঁপানো ঘটনাপ্রবাহ: 

‎ফারহানের সেই নোট অনুযায়ী, তারা দুজনে মিলে দুটি বন্দুক কেনে। আমেরিকার অস্ত্র আইন কতটা শিথিল তা নিয়ে সে উপহাস করে লিখেছিল যে, বন্দুক কেনা ছিল সবচেয়ে সহজ কাজ। শুধু ফরমে নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে মিথ্যা তথ্য দিতে হয়েছে।


‎সেই শনিবার রাতে তারা তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করে:

‎১. দুই ভাই মিলে প্রথমে তাদের যমজ বোন ফারবিন তৌহিদকে হত্যা করে, যে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছিল।

‎২. এরপর তারা তাদের ৭৭ বছর বয়সী নানি আলতাফুন নেসাকে গুলি করে।

‎৩. শেষে তারা তাদের মা আইরিন ইসলাম এবং বাবা তৌহিদুল ইসলামকে হত্যা করে।

‎৪. সব কাজ শেষ করে দুই ভাই একে অপরকে বা নিজেদেরকে গুলি করে আত্মাহুতি দেয়।


‎ সেই দুর্ভাগা নানি এবং ‘দ্য অফিস’ শো-র প্রভাব: 

‎সবচেয়ে মর্মান্তিক তথ্য হলো, নানি আলতাফুন নেসা পাবনা থেকে মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তার দেশে ফেরার টিকেট ছিল ওই ঘটনার কয়েক দিন আগেই। কিন্তু কোভিডের কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি সেখানে আটকা পড়েন এবং নিজ নাতিদের হাতে প্রাণ দিতে হয়।


‎ফারহান তার নোটে আরও লিখেছিল যে, সে জনপ্রিয় টিভি শো ‘দ্য অফিস’ (The Office) আবার দেখতে শুরু করেছিল যাতে তার বিষণ্নতা কমে। কিন্তু শো-টি যেভাবে শেষ হয়েছে তাতে সে আরও বিরক্ত হয়ে পড়ে এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলে।


​ নিহতদের পরিচয়: এক নজরে পুরো পরিবার 

এই নৃশংস ঘটনায় প্রাণ হারান পরিবারের ৬ জন সদস্য:


​তৌহিদুল ইসলাম (৫৪): পরিবারের কর্তা, যিনি প্রায় ২২ বছর আগে ডিভি (DV) লটারি পেয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন এবং সিটি ব্যাংকে ভালো পদে কর্মরত ছিলেন।


​আইরিন ইসলাম (৫৬): তৌহিদুলের স্ত্রী এবং সন্তানদের মা, যিনি পাবনার মেয়ে ছিলেন।


​আলতাফুন নেসা (৭৭): আইরিনের মা এবং সন্তানদের নানি, যিনি দুই বছর আগে পাবনা থেকে মেয়ের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলেন।


​তানভীর তৌহিদ (২১): বড় ছেলে, ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের ছাত্র।


​ফারবিন তৌহিদ (১৯): একমাত্র মেয়ে, যিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়েছিলেন।


​ফারহান তৌহিদ (১৯): ছোট ছেলে (ফারবিনের যমজ ভাই), যে এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী।


‎ শেষ পরিণতি ও জনমনে আতঙ্ক: 

‎তৌহিদুল ইসলাম সিটি ব্যাংকে একটি উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন এবং তাদের পরিবারকে প্রতিবেশী সবাই অত্যন্ত আদর্শ হিসেবে জানত। ডালাস মর্নিং নিউজ এবং দ্য ডেইলি টেক্সানের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনার পর পুরো আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে, এত মেধাবী দুই তরুণ তাদের নিজের রক্তকে এভাবে ঠান্ডা মাথায় শেষ করে দেবে।


‎ সংবাদের তথ্যসূত্র (Verified English Sources): 

‎ ১। CBS News Texas - April 5, 2021 Update.

‎ ২। The Daily Texan (UT Austin) - Research Report 2021.

‎ ৩। Associated Press (AP) - Crime Investigation Desk.

‎ ৪। Dallas Morning News - Archive 2021.



‎নিউজ প্রকাশের তারিখ: এপ্রিল ২০২১

সর্বশেষ