টাইম বাংলা নিউজ ডেস্ক,
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪১
ঘাতকের বাড়িঘর ভেঙে দিল এলাকাবাসী।
পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, জুমার নামাজ শেষে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী মানুষ একত্রিত হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে তারা বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করেন। শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ থেকেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, কলির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। শুক্রবার নামাজের পর অনেক মানুষ এক জায়গায় জড়ো হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা চালান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ঘটনার পর গ্রামজুড়ে আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভও রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি করছেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, হামলার আশঙ্কায় ঘটনাস্থলে পুলিশ আগে থেকেই মোতায়েন ছিল। কিন্তু সেখানে জড়ো হওয়া মানুষের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্বজনরা।
নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি জানান, ঘটনার দিন হত্যার আগে গ্রেফতার আসামিরা কলিকে মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনে থাকা একটি ঘরে নিয়ে যায়। পুলিশের তদন্তে সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মতামত দিন