• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৬, শনিবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০৯ অপরাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ কমে, নর্মদায় কেন বাড়ে?*

  • প্রকাশিত ০৩:০৯ অপরাহ্ন শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ কমে, নর্মদায় কেন বাড়ে?*
Time Bangla news
রিপোর্ট :ফজলে এলাহি সুমন

*পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ কমে, নর্মদায় কেন বাড়ে?* 


 *উপশিরোনাম:* রপ্তানিকারক বাংলাদেশে এক বছরে ভারতীয় ইলিশের আমদানি ৩১ গুণ; দেশের উৎপাদন কমার কারণ খুঁজছে-- নদীর নাব্যতা, পানির তাপমাত্রা ও পরিবেশগত পরিবর্তন,  ইলিশের চলাচল নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে ও চলছে গবেষণা। 

ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। পদ্মা, মেঘনা ও উপকূলীয় নদীগুলোকে ঘিরেই যার প্রজনন ও বিচরণের দীর্ঘ ইতিহাস। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে দেখা যাচ্ছে এক অস্বাভাবিক চিত্র—বাংলাদেশে ইলিশের সরবরাহ কমার সময় ভারত থেকেই আসছে ইলিশ। গত এক বছরে প্রতিবেশী দেশ থেকে এই মাছের আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩১ গুণ।

 *আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে ভারতের গুজরাটের নর্মদা নদী ঘিরে। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের উপস্থিতি ও উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—ইলিশের চলাচল ও প্রজননের ভৌগোলিক চিত্র কি বদলে যাচ্ছে?* 

ঢাকার বিভিন্ন মাছের বাজারে ভারতীয় ইলিশ এখন আর একেবারে অপরিচিত নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেশি ইলিশের তুলনায় কম দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। অথচ একসময় সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এলেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানোর খবরই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয় ইলিশ আমদানির পথ বন্ধ করেছে বাংলাদেশ। মৎস্য অধিদপ্তর আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তিপত্র (এনওসি) বাতিল করেছে। সিদ্ধান্তটির নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ কয়েকটি সম্ভাব্য কারণের কথা বলছেন।

এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বাজারজাত করার অভিযোগ, আমদানি মূল্যে অসঙ্গতি এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদন ও বাজারকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয়তা। তবে এসব বিষয়কে সরকারি সিদ্ধান্তের ঘোষিত কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৫৩৫ টন।

 *একসময় বাংলাদেশই ছিল সরবরাহকারী* 

ভারত-বাংলাদেশের ইলিশ বাণিজ্যের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইলিশ রপ্তানি শুরু হয়।

বিশেষ করে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি ইলিশের চাহিদা বাড়ত। ২০১২ সালে রপ্তানি বন্ধ হলেও ২০১৯ সালে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে আবার সীমিত আকারে রপ্তানি শুরু হয়।

তবে অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় বাস্তবে রপ্তানির পরিমাণ ছিল অনেক কম।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ভারতে ৪ হাজার ৬০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও বাস্তবে রপ্তানি হয় ১ হাজার ২০০ টন। ২০২২ সালে অনুমোদন ছিল ২ হাজার ৯০০ টন, রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন।

২০২৩ সালে ৩ হাজার ৯৫০ টনের অনুমতির বিপরীতে রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩০০ টন। আর ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪২০ টন রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ভারতে যায় মাত্র ৫৭৭ টন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশের বাজারে ইলিশের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় অনুমোদিত পরিমাণের পুরোটা রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।

 *ভারত থেকে আমদানিতে হঠাৎ উল্লম্ফন* 

বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের আমদানি শুরু হয় খুব বেশি দিন আগে নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে ইলিশ আমদানি শুরু হয়। প্রথম বছরে আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ৮৫ টন।

কিন্তু পরের বছর চিত্র পাল্টে যায়। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক মাসেই আমদানি কয়েকশ টনে পৌঁছে যায়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে দেশে এসেছে প্রায় ৫৫৩ টন ইলিশ। এই মাছ আমদানি করেছে বাংলাদেশের ২০টি প্রতিষ্ঠান।

অর্থাৎ *মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৩১ গুণ।* 

আমদানিকারকদের হিসাবে, ভারত থেকে ১ থেকে দেড় কেজি ওজনের একটি ইলিশ বাংলাদেশে আনতে সব খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা ব্যয় হয়। একই আকারের দেশি ইলিশের দাম অনেক ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ওঠে।

তবে আমদানি নথিতে দেখানো মূল্য নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৫৫৩ টন ইলিশের মোট আমদানি মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার ৮৪৯ মার্কিন ডলার। ডলারপ্রতি ১২৩ টাকা ধরলে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এ হিসাবে আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি ইলিশের ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২০২ টাকা। অবশ্য এর সঙ্গে শুল্ক-কর, পরিবহন, সংরক্ষণ, শ্রম, ব্যবসায়িক ব্যয় ও মুনাফা যোগ হওয়ার পর বাজারদর বাড়ার কথা।

এদিকে ভারতীয় ইলিশকে দেশি বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এমন অভিযোগে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যশোরের বড়বাজারে অভিযান চালিয়ে এক আড়তদারকে জরিমানা করে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

দেশের উৎপাদনেও দেখা যাচ্ছে নিম্নমুখী প্রবণতা

ইলিশ আমদানির পেছনে বাজারের চাহিদার পাশাপাশি দেশের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ না হলেও মৎস্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমে এসেছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তিন বছরে উৎপাদন কমেছে প্রায় ১২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

তবে ইলিশের উৎপাদন কমার পেছনে একক কোনো কারণ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। *কারণ ইলিশ পরিযায়ী মাছ। জীবনের বড় অংশ সাগরে কাটিয়ে প্রজননের সময় নদীর মিঠা পানিতে আসে। ফলে নদীর গভীরতা, স্রোত, পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, দূষণ এবং সাগর-নদীর সংযোগ—সবকিছুর ওপর এর বিচরণ ও প্রজনন নির্ভর করে।* 

 *নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া, প্রবাহের পরিবর্তন, নদীপথ সংকুচিত হওয়া, দূষণ, অতিরিক্ত মাছ আহরণ, অবৈধ জালের ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইলিশের জীবনচক্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞ আলোচনায় উঠে এসেছে।* 

 *বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে কমেছে ইলিশ* 

২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের জলজ পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগের বিষয় উঠে আসে।

 *গবেষণায় বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর আগের সময়ের তুলনায় ওই এলাকার পানির তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়ার তথ্য পাওয়া যায়।* একই গবেষণায় তিন বছরের মধ্যে ওই এলাকায় ইলিশ আহরণ প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দেওয়া গবেষক খোরশেদ আলমের মতে, কয়লা পরিবহনকারী জাহাজ, তেল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা, কয়লার ছাই ও তরল বর্জ্য ইলিশের প্রজনন এবং খাদ্যভিত্তিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 *নর্মদায় কেন দেখা যাচ্ছে বেশি ইলিশ?* 

বাংলাদেশের ইলিশ নিয়ে যখন উৎপাদন ও চলাচলের প্রশ্ন উঠছে, একই সময়ে ভারতের গুজরাটের নর্মদা নদীর মোহনায় ইলিশের উপস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল বর্ষা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে গুজরাটের ভারুচের কাছে নর্মদা মোহনায় ইলিশের জন্য তুলনামূলক উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

গুজরাটের সরকারি পরিসংখ্যানেও উৎপাদনের বড় ওঠানামা দেখা যায়। ২০২২-২৩ সালে সেখানে ইলিশ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ১৯৯ টন। পরের বছর তা কমে ৮ হাজার ২০৯ টনে নেমে যায়। ২০২৪-২৫ সালে উৎপাদন কিছুটা বেড়ে ৮ হাজার ৫৩৬ টন হলেও ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে ১৪ হাজার ৫৮৮ টনে পৌঁছায়।

ইনল্যান্ড উৎপাদনে পরিবর্তন আরও উল্লেখযোগ্য। ২০২৪-২৫ সালে গুজরাটে ইনল্যান্ড ইলিশ উৎপাদন ছিল ১২৩ দশমিক ৬২ টন। এক বছর পর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৪৫ দশমিক ৯৯ টনে।

তবে এই তথ্য থেকে এমন সিদ্ধান্তে আসার সুযোগ নেই যে বাংলাদেশের ইলিশ নর্মদায় চলে গিয়ে ভারতের উৎপাদন বাড়িয়েছে। ইলিশের পরিযায়ী আচরণ এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে কোথায় তার উপস্থিতি বাড়ছে বা কমছে, সেটি নির্ধারণে বহু বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

 *বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় নদীর প্রবাহ, পানির তাপমাত্রা, গভীরতা, দূষণ, প্রজননক্ষেত্র এবং নদী-সাগরের সংযোগের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।* 

 *বদলে যাচ্ছে কি ইলিশের চলাচলের পথ?* 

ভারতের গঙ্গা-হুগলি অববাহিকা একসময় ইলিশের গুরুত্বপূর্ণ বিচরণ ও প্রজনন এলাকার মধ্যে ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ফারাক্কা ব্যারাজ, নদীর নাব্যতার পরিবর্তন, নির্মাণকাজ, দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয় ইলিশের ঐতিহ্যগত চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে। **পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় নদীর গভীরতা ও স্রোত কতটা পরিবর্তিত হয়েছে, ইলিশের প্রজনন এলাকায় পানির তাপমাত্রা কীভাবে বদলাচ্ছে, নদীর দূষণ কতটা বাড়ছে এবং সাগর থেকে নদীতে ইলিশের প্রবেশপথ কতটা বাধামুক্ত—এসব প্রশ্নের উত্তর জানা জরুরি।* 

কারণ বাজারে ইলিশের দাম বাড়া বা কমা কেবল সরবরাহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন।

 *আমদানি বন্ধের পরও মূল প্রশ্ন নদীতেই* 

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হওয়ায় সাময়িকভাবে দেশের বাজারে সরবরাহের হিসাব বদলাতে পারে। কিন্তু এতে বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন কমার মূল কারণগুলো দূর হচ্ছে না।

একসময় বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ যেত। এখন সেই বাংলাদেশের বাজারেই ভারতীয় ইলিশের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। আবার সেই আমদানির পথও বন্ধ করা হয়েছে।

তাই ইলিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি বাণিজ্যের নয়, বরং পরিবেশের—পদ্মা, মেঘনা ও উপকূলীয় নদীগুলোকে ইলিশের জন্য আগের মতো উপযোগী রাখা যাচ্ছে কি না।

নদীর নাব্যতা, পানির প্রবাহ, তাপমাত্রা, দূষণ, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে শুধু আমদানি বন্ধ করে দেশের ইলিশের সংকট সমাধান করা কঠিন হতে পারে।

নর্মদায় ইলিশ বাড়ছে আর বাংলাদেশে কমছে—এই দুই ঘটনাকে সরাসরি কারণ-ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে দুটি ঘটনাই একটি বড় বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে: ইলিশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নদী ও জলজ পরিবেশের পরিবর্তনকে এখন আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ