• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

সরবরাহ কমিয়ে সয়াবিনের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা।*

  • প্রকাশিত ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
সরবরাহ কমিয়ে সয়াবিনের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ।

*সরবরাহ কমিয়ে সয়াবিনের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা।* 


 *উপশিরোনাম:* এক ও দুই লিটারের বোতলে সংকট, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ। 

ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক দোকানে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামে তেল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে দাম বাড়ানোর চাপ তৈরির চেষ্টা করাহচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এভাবে পরিস্থিতি তৈরি করে প্রতি লিটারে আরও কয়েক টাকা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

রাজধানীর সাভার বাজার ও মিরপুর এলাকার খুচরা বাজার ঘুরে সীমিত সরবরাহের চিত্র পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সাভার বাজারের দশটি মুদি দোকানের সাতটিতে এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। মিরপুর-১ কাঁচাবাজারের নয়টি দোকানের মধ্যে মাত্র তিনটিতে এক লিটারের বোতল এবং দুটিতে দুই লিটারের বোতল পাওয়া যায়। তবে তুলনামূলকভাবে পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহ ছিল।

সাভার কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী বাশার বলেন, প্রতিদিন এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায়  ১৮ কার্টন। কিন্তু ডিলারদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দুই থেকে তিন কার্টন। তাঁর অভিযোগ, সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর থাকার মধ্যেই কোথাও কোথাও বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য এর চেয়ে ১৫ টাকা কম। ফলে নতুন করে সরকারি মূল্য ঘোষণা না এলেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের কয়েকটি বড় কোম্পানি ভোজ্যতেলের বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁর মতে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে বাজারে চাপ সৃষ্টি করে মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা নতুন কোনো কৌশল নয়। অতীতেও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সরবরাহব্যবস্থা কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি এবং সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

এর আগে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। ১১ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার কথা বলা হয়। পাঁচ লিটারের বোতলের দামও ১০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ১৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

একই প্রস্তাবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আট টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার কথা জানানো হয়।

এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হলেও তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবির আংশিক বাস্তবায়ন করে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম চার টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মনে করছে, বর্তমান দামের সঙ্গে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যয় এবং পরিবহণ খরচ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে তাদের দাবি।

সাভার বাজারের একটি ব্র্যান্ডের এক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোম্পানি পর্যায় থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিলারদের পক্ষেও বাজারে আগের পরিমাণে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য, এর আগেও মূল্যবৃদ্ধির আগে একই ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেলের কোনো বড় ধরনের সংকট নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্সের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহণ ব্যয় বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর দাবি করেছিলেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকার এর পরিবর্তে পাঁচ টাকা দাম সমন্বয় করেছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, নতুন করে দাম বাড়ানোর বিষয়ে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরির চেষ্টা করা হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ অবস্থায় বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা। তাদের আশঙ্কা, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হলে বাজারে বাড়তি দামের প্রবণতা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সর্বশেষ