• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৯, মঙ্গলবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১৩
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*বন্ধ পাটকল খুলছে, ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ।*

  • প্রকাশিত ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
*বন্ধ পাটকল খুলছে, ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ ।

*বন্ধ পাটকল খুলছে, ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ।* 


 *উপশিরোনাম:* ২৫ মিলের ২০টি বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ;  ১৭টির লিজ সম্পন্ন, উৎপাদনে ৯টি 

২৮.০৯.২০২৬ । 

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো ধাপে ধাপে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন মিলগুলো পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭টি মিলের ইজারা কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি পাটকলে উৎপাদনও শুরু হয়েছে। এসব মিলে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের এমএম জুট মিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর কো-অপারেটিভ জুট মিলের লিজ প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

সম্প্রতি আরও তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ও খুলনার স্টার জুট মিলস পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলসের ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এই তিনটি মিল পুরোদমে চালু হলে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা মোট আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়েছিল। পরে এসব প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তিনি জানান, বিজেএমসির অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি ও আলিম জুট মিলস নিয়ে মামলা চলমান থাকায় সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সীতাকুণ্ডের আমিন জুট মিলস চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজেএমসির এই কর্মকর্তা।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ থাকা মিলগুলো পুনরায় চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন বিনিয়োগ আনা এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এসব মিল পরিচালনায় যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দীর্ঘদিন লোকসানের মধ্যে থাকায় ২০২০ সালের ১ জুলাই সবগুলো মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বন্ধ মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি লিজের মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এখন সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একদিকে বন্ধ শিল্পকারখানায় উৎপাদন ফেরানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ