সদর থানার এসআই নূর মোহাম্মদ এবং এসআই সাগর দে এর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া শরিফ ভিলার ভাড়া বাসার সামনে গত ৯ মার্চ ২০২৬ রাত ৩:৪০ ঘটিকার সময় মাদক ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত নগদ
টাকাসহ তিনজনকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে মাদকের বিষয়টি উল্লেখ না করে আসামীদের ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন সদর থানা পুলিশ।
মামলায় উল্লেখ আছে, আসামীদের কাছ থেকে বিভিন্ন নোটে সর্বমোট ১০ লক্ষ ৭ হাজার টাকা আলামত দেখানো আছে। টাকার পরিমাণ এর সাথে টাকার বান্ডিলের মিল নেই।
তাদের ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে। যা শিয়াল মামার গল্প কেউ হার মানিয়েছে।
সদর মডেল থানার সাব- ইন্সপেক্টর নূর মোহাম্মদ এবং সাব- ইন্সপেক্টর (নিঃ) সাগর দে, বিপি- ৯১১৯২২৩০৩৫
অথচ, সেইদিন খরুলিয়া এলাকায় দায়িত্বে টহল দলের অফিসার ছিলেন এএসআই শাকিল কান্তি সেন। রহস্যজনক কারণে তাকেও ঐ অভিযানের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলার নাপিত খালী ৫ নং ওয়ার্ড নতুন অফিস, হোসেন আহামদ মোজাফফর এর পুত্র- আরিফুর রহমান (২৮)
চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার কুরবানীগঞ্জ, বলুয়ার দিঘির পূর্ব পাঠ বাই লেইন আবুল কালাম সওদাগর কলোনির মোঃ আসলাম এর পুত্র - মোঃ পারভেজ( ৩৬)
চট্টগ্রাম বাকলিয়া থানার হাফেজ আহমদ সওদাগরের নতুন বাড়ি কে,বি আমান আলী রোড ওয়াইজার পাড়ার মোহাম্মদ আইয়ুব আলীর পুত্র- আরিফ রানা (৩৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
এই তিন মাদক ক্রেতারা সদর খরুলিয়া একটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাদক ক্রয় করতে আসেন। তাদের সাথে ছিল একটি কালো ব্যাগ যেখানে টাকা পরিমান ছিল ১২ লক্ষ ২০ হাজার। গভীর রাতে তাদের চলাফেরা রহস্যজনক মনে হলে, একই এলাকার মৃত: ফজল করিমের পুত্র- মোঃ আনিস এবং একই এলাকার গরু ব্যবসায়ী মোঃ সিরাজের পুত্র তৌহিদসহ তিন ইয়াবা ক্রেতাদের ব্যাগটি কেড়ে নিয়ে তিনজনকে আটকিয়ে রাখে একটু পরে একই এলাকার মৃতঃ সুলতানের পুত্র- মৎস্যজীবী দলের নেতা মোহাম্মদ মোস্তফা কে খবর দেয়, সঙ্গে সঙ্গে মোস্তফা ঘটনা স্থলে এসে পুলিশকে খবর দেয়। কিছুক্ষণ পর এসআই নূর মোহাম্মদ এর নেতৃত্বে এসআই সাগর দে, সহ পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তিনজন আসামীকে নগদ টাকা এবং দুটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেন।
অভিযানের সাথে থাকা স্থানীয় এক চাকরিজীবী জানান, উদ্ধারকৃত টাকার পরিমান ছিল ১২ লাখ বিশ হাজার টাকা। সেখান থেকে টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর বাকি টাকা গুলোকে ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আমি নিজের চোখে দেখেছি এবং শুনেছি, আসামীরা পুলিশকে এই টাকা গুলো ইয়াবা লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
কিন্তু এই অসাধু পুলিশ কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে,
ঘটনার সাথে মামলার কোন ধরনের মিল রাখেনি। যার ৭ মিনিটের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এই বিষয়ে বিএন পি নেতা মোস্তফার বক্তব্য নেওয়া হলে, তিনি ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টাকার পরিমান ছিল দশ লাখ ৫০,০০০ হাজার। যার দুই মিনিটের রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এই বিষয়ে ঘটনার সাথে থাকা আনিসের বক্তব্য নেওয়া হলে, তিনি বলেন টাকার পরিমাণটা আমার জানা নেই, কিন্তু ঘটনা সত্য। ইয়াবা লেনদেনের টাকার বিষয়টি আসামীরা স্বীকার করেছে। যার ৫ মিনিটের কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এ বিষয়ে, ঘটনার সাথে থাকা তৌহিদের বক্তব্যের জন্য ফোন করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি, তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি ।
এই বিষয়ে, এসআই সাগর দে এর বক্তব্য নেওয়া হলে, তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এই টাকাগুলো আসামীরা তাদের ব্যবসার টাকা হিসেবে দাবি করেন। উদ্ধারকৃত টাকার পরিমান ১০ লক্ষ ৭ হাজার টাকা দাবি করেন।এবং কিছু টাকা পুলিশ যাওয়ার পূর্বে সরানো হয়েছে বলে দাবি করেন।
এই বিষয়ে এসআই নূর মোহাম্মদ এর বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বলেন,আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, আমরা যা অভিযান করেছি, তা ভিডিও ধারণ করেছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ,
ওই টাকা গুলি ইয়াবা লেনদেনের টাকা, যা দিনের আলোর মত সত্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পুলিশ কেন এই বিষয়টি মামলায় স্পষ্ট করেনি?
তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে,পুলিশ ঐ নৈতিক লেনদেনের কারণে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে, যা শিয়াল মামার পাঠশালার গল্পকেও হার মানিয়েছে। এই অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে,আসল রহস্য উন্মোচন করে প্রকৃত অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য কক্সবাজার পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে কক্সবাজারের সচেতন মহল।
আরো অভিযোগ আছে,বিএনপি নেতা মোস্তফা পুলিশ কে খবর দিয়েছে, তার বাড়িতে টাকাগুলো হিসাব করা হয়েছে। এবং ভিডিও ধারণ করা হয়েছে, পুলিশ সেখানে সেদিন সেহেরী ও খেয়েছে। অথচ তার বক্তব্যের সাথে পুলিশের জব্দ তালিকার টাকার অংকের ৪৩ হাজার টাকার গরমিল রয়েছে।
অভিযানে সাথে থাকা স্থানীয়দের বক্তব্যের সাথে ২ লক্ষ ১৩ হাজার টাকার গরমিল রয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, পুলিশ উদ্ধারকৃত টাকা জব্দ তালিকায় দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। যা দেশ এবং জাতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এসব বিষয়টি পুনরায় তদন্তের মধ্য দিয়ে, এসব অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।
এসআই নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আছে -
৫ আগস্ট এর পূর্বে থাকা সকল অফিসারদের বদলি হলেও,
কোন এমন শক্তির রহস্যজনক কারণে নূর মোহাম্মদ এর এখনো বদলি হয়নি? তা নিয়ে ও প্রশ্ন উঠেছে!
তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ,০৫ আগস্টের পর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক আসামীদের রিমান্ডে এনে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলার প্রতিবেদন হালকা করে দেওয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলার আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করে মামলা সীমিত দিয়ে চালান করার কথা বলেও। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে, কথিত এই পুলিশ কর্মকর্তা। যা এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকানোর চেষ্টা।
এসব অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, বাংলাদেশ পুলিশের মান সম্মান নষ্ট হবে বলে ধারণা করেছেন স্থানীয়রা।
এই বিষয়ে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক)
দেবদাস ভট্টাচার্য এর বক্তব্য নেওয়া হলে তিনি বলেন।
আপনাদের মধ্য দিয়ে বিষয়টি শুনেছি আমি এই বিষয়টি এসপি মহোদয়কে জানাবো।
অতএব, অসাধু ব্যক্তিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না । অযৌক্তিক কাজের সাথে যে পুলিশ সম্পৃক্ত থাকবে,তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত দিন