রাতের আঁধারে নদী বা জঙ্গল দিয়ে চোরাচালানের দিন এবার চিরতরে শেষ! ভারত সীমান্তে ৬ হাজার কোটি টাকার চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দিতে নামছে বিজিবির থার্মাল ও নাইট ভিশন ড্রোন! 🇧🇩
বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক অবৈধভাবে দেশে ঢোকে! বিভিন্ন ধরনের মাদক, চোরাই চিনি, কাপড় ও কসমেটিকসের কারণে একদিকে দেশের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছিল, অন্যদিকে দেশি ব্যবসায়ীরা পড়ছিলেন অসম প্রতিযোগিতায়।
এই জিম্মিদশা ও সীমান্ত অপরাধ রুখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের বিশেষ পরিকল্পনায় বিজিবি হাতে নিয়েছে এক অভাবনীয় মেগা ড্রোন প্রজেক্ট!
কী থাকছে বিজিবির এই নতুন প্রযুক্তির পাহারায়?
✅ ১৩৭টি ড্রোনের বিশাল বহর: বিজিবি নিজস্ব অর্থায়নে যুক্ত করেছে ৫টি মাঝারি পাল্লার ড্রোন, ৫০টি স্বল্প পাল্লার থার্মাল ইমেজিং ড্রোন এবং ৮২টি সাধারণ নজরদারি ড্রোন।
✅ শরীরের তাপ মেপে শনাক্ত: রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিংবা ঘন কুয়াশায় সাধারণ ক্যামেরায় কিছু না দেখা গেলেও, থার্মাল ড্রোন দূর থেকেই মানুষের শরীরের তাপমাত্রা দিয়ে পাচারকারীদের অবস্থান একদম পরিষ্কার স্ক্রিনে ভাসিয়ে তুলবে!
✅ অ্যান্টি-ড্রোন: সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ ড্রোন উড়িয়ে যাতে মাদক বা যেকোনো ধরনের পণ্য ফেলা না যায়, সেজন্য বহরে যুক্ত হয়েছে ১০টি আধুনিক হ্যান্ডহেল্ড অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম।
✅ ড্রোন ওয়ারফেয়ার স্কুল: সীমান্ত সুরক্ষায় ড্রোন পরিচালনায় জওয়ানদের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ দিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তির কারণে সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার এক ধাক্কায় ৭০% থেকে ৮০% কমে আসবে! বন্ধ হবে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার, আর নিরাপদে ঘুমাবে সীমান্তবর্তী নিরীহ মানুষ।
আপনার মতে, সীমান্তে ড্রোন নজরদারি চালু হলে চোরাচালান কি সত্যিই বন্ধ হবে, নাকি চোরাকারবারীরা নতুন পথ খুঁজে নেবে, আর চোরাচালান ঠেকাতে দেশের কোন কোন সীমান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই ড্রোন প্রযুক্তি বসানো উচিত?
মতামত দিন