**সাজেকে অবরোধ নবম দিনে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে সেনাক্যাম্পে সেনাপ্রধান।**
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পাঁচ দফা দাবিতে চলমান অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ নবম দিনে গড়িয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালেও বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় পর্যটন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি দুর্গম গ্রামগুলোতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার সাজেকের বাঘাইহাট জোনের সেনাক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালন পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তিনি এ সফর করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
সফরকালে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডারসহ সেনাসদর ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ দফা দাবিতে অবরোধ
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে। ২২ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, উজোবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
এ ছাড়া উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার, সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া, চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার-হয়রানি না করার দাবিও রয়েছে তাদের।
গত ২২ অক্টোবর অবরোধকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আন্দোলনকারী ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর আন্দোলন শুরু করে সংগঠন দুটি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত রাখার পর ২২ অক্টোবর থেকে আবার অবরোধ শুরু হয়।
সমঝোতা হয়নি একটি দাবিতে
অবরোধের কারণে সাজেকে আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। পরে ২২ অক্টোবর সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের নিরাপত্তায় তাঁদের খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও উজোবাজার এলাকায় আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সংকট নিরসনে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্যদের মধ্যস্থতায় আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার সম্ভব হয়নি।
গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সাজেক থেকে জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ কারণেই আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গম জনপদে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, এলাকার সামগ্রিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং তা পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
মতামত দিন