দেশে আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট। জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় কোথাও কোথাও দিনে ১০–১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে সামনে আনা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় সব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভর জ্বালানি, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
কৃষিতেও পড়ছে সরাসরি প্রভাব
বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রভাব পড়ছে সেচনির্ভর কৃষিতে। সেচপাম্প সময়মতো চালাতে না পারায় কৃষককে কখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কখনো ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
দেশে প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার সেচ সংযোগ রয়েছে। সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়ে। ফলে লোডশেডিং দীর্ঘ হলে সময়মতো সেচ না পাওয়ার কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে।
বিদ্যুৎ নেই, তবু বাড়তি বিলের অভিযোগ
লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির পাশাপাশি গ্রাহকদের একটি অংশ অস্বাভাবিক বা কথিত ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ করছেন। জুলাই-আগস্টের বিল নিয়ে এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসেছে। তবে এসব বিলের ক্ষেত্রে মিটার রিডিং, পূর্ববর্তী ব্যবহার, বকেয়া সমন্বয় ও বিলিং-সংক্রান্ত ত্রুটি যাচাই করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সমাধান কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট মোকাবিলায় শুধু লোডশেডিং কমানো যথেষ্ট নয়। গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির নির্ভরযোগ্য সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা কাজে লাগানো, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কৃষির সেচকে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট এখন আর শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমস্যা নয়—এর প্রভাব পড়ছে কৃষক, শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ গ্রাহকের জীবনযাত্রায়। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি সঠিক বিলিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সংকট মোকাবিলার বড় চ্যালেঞ্জ।
মতামত দিন