• ২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭, রবিবার, ১৪৩৩ আশ্বিন ১১
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
English
পরিচালনাপর্ষদ
আমাদের সাথে থাকুন আপনি ও ... www.timebanglanews.com

*পাহাড়ে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ।*

  • প্রকাশিত ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
*পাহাড়ে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ।*
Time Bangla news
ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

*পাহাড়ে নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ।* 


 **উপশিরোনাম:* বদলে গেছে সীমান্তের বাস্তবতা, বেড়েছে সশস্ত্র হুমকি; শক্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত নীতির তাগিদ। 

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি এবং অঞ্চলটির মানুষের মতামত যুক্ত করতে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব কমিটির সম্মিলিতভাবে একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়নের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাহী কমিটিকে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের একদল বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির ফলে পাহাড়ে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। আইন পর্যালোচনার নামে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে।

এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ ১৯৯৭ সালের বাস্তবতার সঙ্গে ২০২৬ সালের বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। হুমকির ধরন বদলেছে, বদলেছে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও।

 *বদলে গেছে নিরাপত্তার চিত্র* 

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সংঘাতের মূল চরিত্র ছিল অভ্যন্তরীণ। রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সক্রিয় সশস্ত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যত রাষ্ট্রবহির্ভূত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মুখোমুখি। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামলা, হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে।

মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্ত্র, মাদক ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের চলাচলের ঝুঁকি থাকায় একটি অঞ্চলের নিরাপত্তাশূন্যতা দ্রুত অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া বৃহত্তর অঞ্চলের কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে কুকি-চিন-মিজো জনগোষ্ঠীকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা ধর্মভিত্তিক ভূরাজনৈতিক ধারণাও প্রচারিত হচ্ছে। এসব ধারণার ব্যাপক জনসমর্থনের প্রমাণ না থাকলেও অস্থিতিশীল পরিবেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা বাইরের শক্তি এগুলোকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।

 *নিরাপত্তার সঙ্গে আস্থাও জরুরি* 

এই বাস্তবতায় সীমান্ত সুরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শুধু সামরিক বা আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো, যেখানে সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন, সম্পদ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তঃসম্প্রদায়িক আস্থার বিষয়গুলোও জাতীয় কৌশলের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

নতুন তিন কমিটির সামনে তাই বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার নামে শুধু শক্তি প্রয়োগের কাঠামো তৈরি না করে তারা চাইলে পাহাড়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার নতুন ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। আবার নীতিনির্ধারণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

পাহাড়ের নিরাপত্তা কেবল পাহাড়ে অবস্থানরত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়। সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষ যদি নিজেদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও রাষ্ট্রের অংশীদার মনে করেন, তবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা টেকসই হবে।

 *সুতরাং লক্ষ্য হওয়া উচিত—শুধু পাহাড়কে নিরাপদ রাখা নয়, পাহাড়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়কে নিরাপদ করা।

তথ্যসূত্র: আমাদের সময়।

 **উপশিরোনাম:* বদলে গেছে সীমান্তের বাস্তবতা, বেড়েছে সশস্ত্র হুমকি; শক্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত নীতির তাগিদ। 

ফজলে এলাহী সুমন | সাভার প্রতিনিধি | টাইম বাংলা নিউজ

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, সীমান্ত সুরক্ষা, উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি এবং অঞ্চলটির মানুষের মতামত যুক্ত করতে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এসব কমিটির সম্মিলিতভাবে একটি জাতীয় কৌশল প্রণয়নের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইন ও ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিভিন্ন বিধান পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাহী কমিটিকে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের একদল বিশিষ্ট নাগরিক। তাঁদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির ফলে পাহাড়ে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। আইন পর্যালোচনার নামে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হচ্ছে।

এসব উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কারণ ১৯৯৭ সালের বাস্তবতার সঙ্গে ২০২৬ সালের বাস্তবতার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। হুমকির ধরন বদলেছে, বদলেছে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও।

 *বদলে গেছে নিরাপত্তার চিত্র* 

১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের সময় সংঘাতের মূল চরিত্র ছিল অভ্যন্তরীণ। রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে সক্রিয় সশস্ত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বড় একটি অংশ এখন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। ফলে বাংলাদেশের সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যত রাষ্ট্রবহির্ভূত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মুখোমুখি। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের অভ্যন্তরে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টকে ঘিরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামলা, হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে।

মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অস্ত্র, মাদক ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের চলাচলের ঝুঁকি থাকায় একটি অঞ্চলের নিরাপত্তাশূন্যতা দ্রুত অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া বৃহত্তর অঞ্চলের কিছু প্রান্তিক গোষ্ঠীর মধ্যে কুকি-চিন-মিজো জনগোষ্ঠীকে ঘিরে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা ধর্মভিত্তিক ভূরাজনৈতিক ধারণাও প্রচারিত হচ্ছে। এসব ধারণার ব্যাপক জনসমর্থনের প্রমাণ না থাকলেও অস্থিতিশীল পরিবেশে সশস্ত্র গোষ্ঠী কিংবা বাইরের শক্তি এগুলোকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে।

 *নিরাপত্তার সঙ্গে আস্থাও জরুরি* 

এই বাস্তবতায় সীমান্ত সুরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শুধু সামরিক বা আইনশৃঙ্খলাভিত্তিক ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন এমন একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো, যেখানে সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা পরস্পরের সহযোগী হিসেবে কাজ করবেন।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন, সম্পদ, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন, প্রশাসনিক সক্ষমতা, যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তঃসম্প্রদায়িক আস্থার বিষয়গুলোও জাতীয় কৌশলের অংশ হওয়া প্রয়োজন।

নতুন তিন কমিটির সামনে তাই বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার নামে শুধু শক্তি প্রয়োগের কাঠামো তৈরি না করে তারা চাইলে পাহাড়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার নতুন ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। আবার নীতিনির্ধারণে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হলে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

পাহাড়ের নিরাপত্তা কেবল পাহাড়ে অবস্থানরত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল নয়। সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষ যদি নিজেদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও রাষ্ট্রের অংশীদার মনে করেন, তবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা টেকসই হবে।

 *সুতরাং লক্ষ্য হওয়া উচিত—শুধু পাহাড়কে নিরাপদ রাখা নয়, পাহাড়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়কে নিরাপদ করা।


সর্বশেষ