কুয়াকাটায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: চরম ভোগান্তিতে জনজীবন, সমাধানের স্থায়ী আশায় উপকূলবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে। তীব্র গরম আর টানা লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ী, পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—"কবে শেষ হবে এই ভোগান্তি, মিলবে টেকসই সমাধান?"
নিয়মিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি লো-ভোল্টেজ ও হুটহাট বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন এখানকার নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছে। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী এবং মাছের আড়ৎদাররা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। গরমে পর্যটকরা যেমন অস্বস্তিতে ভুগছেন, তেমনি ইলেকট্রনিক পণ্য ও হিমায়িত মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদের দিন কাটছে চরম উদ্বেগে।
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এবং স্বাস্থ্যসেবায়ও এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালসহ স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের ঘাটতি এবং সঞ্চালন লাইনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। লাইনের মেরামত কাজ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও তারা আশ্বাস দেন।
তবে উপকূলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রটিতে দ্রুত বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
মতামত দিন